বলরামপুরে কন্যাশ্রীরা আবির তৈরি করছে

সঞ্জয় হাল্দার

বলরামপুরে প্রশাসনের উদ্যোগে গত রবিবার শুরু হল পলাশ, গাঁদা ও নীলকন্ঠ ফুল থেকে আবির তৈরির কাজ৷ এলাকার ৫০ জন কন্যাশ্রী একজন প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে বিডিও অফিস চত্বরেই ফুল থেকে আবির বানাচ্ছে৷ কেমন করে প্রস্তুত হচ্ছে আবির? আবির তৈরির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত দুই প্রশিক্ষক রবি বসু ও প্রশান্ত মান্ডি প্রক্রিয়াটি জানালেন৷ তাঁরা বলেন, জঙ্গল থেকে পলাশ, নীলকণ্ঠ ফুল সংগ্রহ করার পর গাঁদা জোগার করা হয় স্থানীয় এলাকা থেকে৷ ফুলগুলো জলে সিদ্ধ করলে তার থেকে রঙিন, গাঢ় ক্বাথ বেরিয়ে আসে৷ বাজার থেকে কেনা ট্যালকম পাউডারে সেই ক্বাথ বা ঘন দ্রবণ ও সুগন্ধি মিশিয়ে রোদে শুকিয়ে নিলেই আবির প্রস্তুত হয়ে যায়৷ পলাশের আবির হয় লাল৷ গাঁদার হলুদ৷ নীলকন্ঠ ফুলের আবির হয় বেগুনি রঙের৷ যে পঞ্চাশ জন কন্যাশ্রী আবির প্রস্তুত করছেন, তাঁদের নেত্রী, বলরামপুর কলেজের ছাত্রী লক্ষ্মী মাঝি বলেন, ‘আমরা ছোটবেলায় দোলের আগে পলাশ ফুল তুলে এনে ভিজিয়ে রাখতাম৷ দোলের দিন জল থেকে ফুলগুলি ছেঁকে ফেলে দেওয়া হত৷ জল হয়ে যেত গোলাপি-লাল৷ সেই রং দিয়ে দোল খেলতাম আমরা৷ এখন পলাশ ফুলের আবির করতে গিয়ে সেই দিনগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে৷’ প্রশাসন আবিরটির নাম দিয়েছে বনপলাশি৷অরণ্যর গন্ধমাখা প্রকৃতির এই আবির রাসায়নিক মুক্ত বলে জানিয়েছে প্রশাসন৷ পুরুলিয়ার জেলাশাসক অলকেশ প্রসাদ রায় বলেন, ‘যারা গতবছর প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, তাঁরা নিজেরা আবির বানাতে পারেন৷ আমরা তাঁদের তৈরি আবির বিপণনের ব্যবস্থা করব৷ নতুন একদল এবার আবির বানাচ্ছেন৷ এতে কর্মসংস্থানের পরিধি বাড়বে৷’ পুরুলিয়ার প্রশাসন আশা করছে, প্রাকৃতিক আবির ব্যবহার করলে মানুষ আর দোলে রাসায়নিক রং খেলতে চাইবেন না৷ ফলে দিনদিন বাজার বাড়বে প্রাকৃতিক আবিরের৷ সেই লক্ষ্যেই নাবালিকা বিয়ে রোধ, বাল্য বিবাহ ও অন্য কুসংস্কার ঠেকাতে সচেতনতা কাজের পাশাপাশি কন্যাশ্রীদের এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে৷

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরামবাগ টিভির তিন সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিস্তারিত রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

মৃত্যুর পরে শেষযাত্রায় থাকতে চায় প্রেমিক প্রেমিকা

রামের ভয়ে বামেদের পাশে মঙ্গলকোট তৃণমূল !