সারদা মামলায় আইপিএস রাজীব কুমার কি গ্রেপ্তার হবেন? জানা যাবে আজই


মোল্ল জসিমউদ্দিন, 

এ যেন ক্রিকেটে ভারত পাকিস্তানের হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ। সিবিআই বনাম রাজীবের মুখোমুখি আইনী লড়াই ঘিরে জমজমাট সর্বভারতীয় রাজনৈতিক পেক্ষাপট। প্রধানমন্ত্রী - মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরেও রাজীব ইস্যু তে সরব বিরোধী দল সহ কেন্দ্রের শাসকদলও। আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজ্য রাজনীতি তো বটেই গোটা দেশের নজর কলকাতার আলিপুর আদালতের দিকে। কেননা কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার তথা এডিজি ( সিআইডি)  রাজীব কুমারের গ্রেপ্তারি নিয়ে মামলার শুনানি রয়েছে। সিবিআই চাইছে আইপিএস রাজীব কুমারের গ্রেপ্তারি। তাই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাতে জারী হয় সেই ব্যাপারে সওয়াল চালাবে। অপরদিকে রাজীবের আইনজীবী  গোপাল হালদার বুধবার দুপুরে কলকাতার আলিপুর আদালতে ৯ নং কোর্টে এসিজেম সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে আইপিএস রাজীব কুমারের পক্ষে   এক পিটিশন দাখিল করেছেন । যেখানে সিবিআইয়ের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাতে তাদের বক্তব্য যেন শোনা হয়। সেই আর্জি রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই আর্জি আলিপুর আদালত গ্রহণ করেছে। তবে মামলা টি কোন আদালতের  এক্তিয়ার রয়েছে, সেই  নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কেননা গত মঙ্গলবার বারাসাত আদালতে বিধায়ক - সাংসদ সংক্রান্ত এজলাসে বিচারক আগাম জামিনদানে কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুতে কোন এক্তিয়ার নেই বলে জানিয়েছে। সেই একই কথা উত্তর ২৪ পরগণা জেলা ও দায়রা বিচারক এই মামলার শুনানিতে জানিয়েছেন। তবে মামলাটি আলিপুর আদালতে শুনানির জন্য পাঠানো হয়েছে। ২০১৭ সালে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিধায়ক ও সাংসদদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায়   বিশেষ আদালত গঠন হয়েছে। সারদা মামলায় তৎকালীন রাজ্যসভার সাংসদ কুনাল ঘোষ গ্রেপ্তার হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্ট এর নির্দেশে এই মামলার নথি ( কেস ডাইরি)  বারাসাত আদালতের এমএলএ - এমপি এজলাসে পাঠানো হয়েছিল। তাই কলকাতা হাইকোর্টের পুনরায় নির্দেশ ছাড়া বারাসাত আদালত এই মামলা ট্রান্সফার কিংবা আলিপুর আদালত শুনানি করতে পারে কিনা, তা নিয়েও আইনজীবীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন।গত মঙ্গলবার রাজীব মামলায় বারাসাত আদালতে শুনানি চলেছে। তাই মামলার নথিপত্র আলিপুর আদালতে বুধবার আসেনি। কেননা মামলার নথিপত্র এক আদালত থেকে অন্য আদালতে পৌঁছাতে নুন্যতম একদিন সময়সীমা লাগে। তবে বুধবার আলিপুর আদালতে এসিজেম এজলাসে আইপিএস রাজীব কুমারের আইনজীবী দাখিল করা পিটিশনে জানিয়েছেন - সিবিআইয়ের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু বিষয়ে যেন তাদের বক্তব্য শোনা হয়। একতরফা শুনানি যাতে না হয় সেজন্য এই আবেদনটি। ইতিমধ্যেই আলিপুর আদালতের এসিজেম সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের তা গ্রহণ করেছেন। যা আইপিএস রাজীব কুমারের পক্ষে কিছুটাও স্বস্তির। রাজীবের আইনজীবীর প্রশ্ন - "গত শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের সিবিআইয়ের সমন খারিজ মামলায় রায়দানের আগে পর্যন্ত রাজীব কুমার ছিলেন সারদা মামলায় একজন সাক্ষী, রক্ষাকবচ তুলে নেওয়ার নির্দেশিকার পরেই কিভাবে সিবিআই আইপিএস রাজীব কুমার কে এই মামলার অভিযুক্ত করলো"?   অপরদিকে রাজ্য পুলিশের শীর্ষ কর্তা কে গ্রেপ্তার করতে গেলে রাজ্যের অনুমতি প্রয়োজন বলেও রাজীবের আইনজীবী দাবি করেছেন। তবে সিবিআইয়ের তরফে সারদা কোম্পানির দেবযানীর ইডি কে দেওয়া তথ্য হাতিয়ার হিসেবে উঠে এসেছে। দেবযানী জানিয়েছিলেন -' বিধাননগর পুলিশ সারদা অফিসে বাজেয়াপ্ত করার সময় সারদার পেমেন্ট বিষয়ক ক্যাশবুক ও দুটি ডাইরী নিয়ে গেছে'।  এছাড়া সম্প্রতি সিবিআই অফিসে জেরার সময় সারদা মামলায় প্রথম পর্বে তদন্তকারী পুলিশ অফিসাররা তাদের বক্তব্যে আইপিএস রাজীব কুমারের নেতৃত্বে তদন্ত চালনা হয়েছে বলে বিষয়টি জানিয়েছেন। এই বিষয় গুলি আইপিএস রাজীব কুমারের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যুতে সিবিআই তুলে ধরতে চায় বলে প্রকাশ। কলকাতা হাইকোর্ট এর বিচারপতি মধুমতী মিত্রের এজলাসে রাজীবের সমন খারিজ মামলায় যা সিবিআইয়ের আইনজীবী বারবার সওয়াল-জবাবে  জানিয়েছেন।তথ্য প্রমাণ লোপাট অভিযোগে সিবিআইয়ের দাবি - সারদা তদন্তে কম্পিউটারগুলিও সিপিইউ অর্থাৎ হার্ড ডিস্ক সহ পেন ড্রাইভ দেয়নি সিটের অন্যতম পদাধিকারী রাজীব কুমার। এছাড়া সারদা অফিসে সিসিটিভির ফুটেজ, ক্যাশবুক, ৪ টি ডাইরি লোপাট করেছেন রাজীব৷ এইবিধ নানান অভিযোগ সিবিআইয়ের আইপিএস রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই নবান্ন থেকে ডিজিপি সিবিআইয়ের রাজীবের অবস্থান জানার চিঠির প্রত্যত্তরে জানিয়েছেন - 'গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছুটিতে আছেন এডিজি (সিআইডি)। ৩৪ নং পার্ক স্টিটের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান ছুটি নেওয়ার চিঠিতে জানিয়েছেন রাজীব'।এখন দেখার আইপিএস রাজীব কুমারের রক্ষাকবচ সুপ্রিম কোর্ট থেকে কলকাতা হাইকোর্টে খারিজ হওয়ার পর নিম্ন আদালতে বহাল থাকে কিনা? আজ অর্থাৎ বৃহস্পতিবার   আলিপুর আদালতে ৯ নং কোর্টে এসিজেম সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের এজলাসে নজর গোটা দেশের।                                                                                                                                                                   

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

আরামবাগ টিভির তিন সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিস্তারিত রিপোর্ট তলব হাইকোর্টের

মৃত্যুর পরে শেষযাত্রায় থাকতে চায় প্রেমিক প্রেমিকা

রামের ভয়ে বামেদের পাশে মঙ্গলকোট তৃণমূল !